ম্যাকাই টেস্টে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, ঘুরে দাঁড়ানোর চাপে অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনে নয় উইকেটের অভূতপূর্ব জয়ের পর বাংলাদেশ এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের এক ম্যাচ দূরে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু শনিবার, ২২ আগস্ট, কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। এটি ম্যাকাইয়ের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা এএইএসটি, বাংলাদেশের সময় সকাল ৬টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইমে শুক্রবার, ২১ আগস্ট রাত ৮টায় প্রথম বল হওয়ার কথা।

সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ এগিয়ে থাকায় ড্র করলেই ট্রফি তাদের। জিতলে হবে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক ধবলধোলাই। তবে ডারউইনের ফলকে শেষ কথা ভাবার সুযোগ নেই: অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডে পরিবর্তন এনেছে, আর বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্সও তাঁর দলকে সতর্ক রেখেছেন।

ডারউইনের জয় কী বদলে দিল

১৩-১৬ আগস্টের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ ও ২৮৪ রানে অলআউট করে ৫৭ রানের লক্ষ্য নয় উইকেটে পেরোয়। হাসান মাহমুদের প্রথম ইনিংসের ৬/৫৫ ছিল অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বাংলাদেশি পেসারের প্রথম টেস্ট পাঁচ উইকেট; তানজিদ হাসান তামিম করেন ১০১, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫। দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের পাঁচ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা শেষ করে দেয়।

ফলটি শুধু বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জয় নয়; সেটি দলের বিদেশের মাটিতে দীর্ঘ ইনিংস গড়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতারও প্রমাণ। ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর এমন প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তার মূল্যও দেখিয়েছে। শান্ত একে বাংলাদেশের সব ফরম্যাট মিলিয়ে সবচেয়ে বড় জয় বলেছেন।

সিমন্সের বার্তা: জেতা একাদশ বদলাতে অনীহা, শোরিফুল বিবেচনায়

ম্যাকাইয়ে বুধবারের তিন ঘণ্টার নিবিড় অনুশীলনে বাংলাদেশের পেসাররা পূর্ণ তীব্রতায় বোলিং করেছেন। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও ছিলেন সেখানে। অধিনায়ক শান্তর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং নির্বাচনের জন্য উপলব্ধ। কিন্তু তাঁর একাদশে ফেরা নিশ্চিত নয়।

সিমন্স বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া এবার আরও কঠিনভাবে ফিরবে; তাই বাংলাদেশের কাজ আগের মান ধরে রাখা, সম্ভব হলে সামান্য উন্নতি করা। শরিফুল ভিন্ন ধরনের বিকল্প দিলেও কোচ জেতা একাদশ বদলাতে সাধারণত অনিচ্ছুক। ফলে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে দুই ইনিংসেই চাপে রাখা হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, তাইজুল ইসলাম ও মিরাজের বোলিং ইউনিট অপরিবর্তিত থাকাই এখন বেশি সম্ভাব্য।

মিরাজের লক্ষ্যও পরিষ্কার: প্রথম টেস্টের সাফল্য পুনরাবৃত্তি করে সিরিজ নিশ্চিত করা। তবে ম্যাকাইয়ের উইকেট উভয় দলের কাছেই টেস্ট-অপরিচিত; তাই কন্ডিশন দ্রুত বোঝা এবং প্রথম ইনিংসে বড় রান সিমন্সের পরিকল্পনার কেন্দ্রেই থাকবে।

অস্ট্রেলিয়ার জবাব: রেনশর প্রত্যাবর্তন, চাপ লাবুশেনের ওপর

অস্ট্রেলিয়া জেক ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে ম্যাথিউ রেনশকে দলে ফিরিয়েছে। ওয়েদারাল্ড ডারউইনে ২৩ ও ০ করেন; রেনশ ম্যাকাইয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেন করার সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প। অ্যালেক্স কেরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি মূলত সরাসরি বদল হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ১ ও ৩১ করা মার্নাস লাবুশেনের জায়গা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে, যদিও তাঁকে বাদ দেওয়ার কোনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই।

স্কট বোল্যান্ড ও জশ ইংলিস দুজনই নির্বাচনের জন্য ফিট ও উপলব্ধ। বোল্যান্ডকে নেওয়া হলে অস্ট্রেলিয়া পেস আক্রমণের ভারসাম্য বদলাতে পারে; ইংলিস বিকল্প ব্যাটার হিসেবে সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু এগুলো এখনো সম্ভাবনা, নিশ্চিত একাদশ নয়। কেরির জন্যও ডারউইনের হতাশার পর কার্যকর প্রত্যাবর্তন জরুরি—বাংলাদেশের স্পিন ও সিমের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাঝের সারির প্রতিরোধই ম্যাচের বড় নির্ধারক হতে পারে।

পেস বিপ্লব ও ডব্লিউটিসি সমীকরণ

সাবেক বাংলাদেশ পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্স এবং বাংলাদেশের পেস আক্রমণের গত পাঁচ বছরের বিকাশে উচ্ছ্বসিত। তিনি এখনো হাসান ও তাসকিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ডোনাল্ডের সতর্কবাণীও বাস্তব: অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটাবে। তবু তাঁর মতে, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিতে আরও ইতিহাস লিখতে পারে।

ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পাঁচ টেস্টে তিন জয় নিয়ে চতুর্থ, পয়েন্ট শতাংশ ৬৬.৬৭। তাদের বর্তমান হিসাব ৪০/৬০। আইসিসির নিয়মে জয়ে ১২, ড্রয়ে ৪ এবং হারে শূন্য পয়েন্ট। ফলে ম্যাকাইয়ে জিতলে বাংলাদেশ ৫২/৭২, অর্থাৎ ৭২.২২ শতাংশে উঠবে; ড্র হলে ৪৪/৭২ বা ৬১.১১ শতাংশ; হারলে ৪০/৭২ বা ৫৫.৫৬ শতাংশ। তবে ধীর ওভাররেটের জন্য প্রতি পূর্ণ পেনাল্টি ওভারে এক ডব্লিউটিসি পয়েন্ট কাটা যেতে পারে—তাই এই হিসাব কোনো কর্তনের অনুপস্থিতিতে প্রযোজ্য।

বাংলাদেশের সামনে তাই সুযোগ বড়, কিন্তু কাজটিও কঠিন: ডারউইনের আবেগকে ম্যাকাইয়ের শৃঙ্খলিত ক্রিকেটে রূপ দেওয়া।

তথ্যসূত্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here